মূল অংশে যান
প্রতিদিন সকাল ৯টা – রাত ১০টা
01783-121256

দৈনন্দিন যত্ন বিড়ালকুকুর

বিড়াল ও কুকুরকে কতদিন পরপর কৃমিনাশক দেবেন?

বিড়ালছানা ও কুকুরছানার প্রতি ২ সপ্তাহে, তারপর প্রতি মাসে, তারপর প্রতি ৩ মাসে কৃমিনাশক। পুরো শিডিউল, বাংলাদেশে কোন কৃমি সাধারণ, আর সঠিক ডোজের নিয়ম।

FI লিখেছেনডা. ফারহান ইসরাক মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. ফারহান ইসরাক ২ মিনিটে পড়া Read in English

মূল কথা

  • ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি ২ সপ্তাহে → ৬ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে → তারপর প্রতি ৩ মাসে।
  • বর্তমান ওজন মেপে ডোজ — বাচ্চারা দ্রুত বড় হয়।
  • ফ্লি ফিতাকৃমি বহন করে, তাই একসাথে ফ্লির চিকিৎসা করুন।
  • কিছু কৃমি শিশুদের আক্রান্ত করতে পারে; পরিচ্ছন্নতা জরুরি।
এই লেখায়

বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি কৃমি — বিশেষ করে বিড়ালছানা ও কুকুরছানায়, যারা প্রায়ই কৃমি নিয়েই জন্মায় বা মায়ের দুধ থেকে পায়। নিয়মিত কৃমিনাশক সস্তা, সহজ, আর অনেক পার্থক্য আনে।

শিডিউল

বয়স বিড়ালছানা কুকুরছানা
শুরু ৩ সপ্তাহ ২ সপ্তাহ
১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি ২ সপ্তাহে প্রতি ২ সপ্তাহে
৩ থেকে ৬ মাস প্রতি মাসে প্রতি মাসে
প্রাপ্তবয়স্ক — কম ঝুঁকি প্রতি ৩ মাসে প্রতি ৩ মাসে
প্রাপ্তবয়স্ক — বেশি ঝুঁকি প্রতি মাসে প্রতি মাসে

বেশি ঝুঁকি মানে প্রাণী শিকার করে, একা বাইরে ঘোরে, কাঁচা মাছ-মাংস খায়, ফ্লি হয়েছে, বা বাসায় ছোট শিশু বা বয়স্ক মানুষ আছেন। নির্দিষ্ট তারিখ পেতে কৃমিনাশক শিডিউল টুল ব্যবহার করুন।

রংপুরে যেসব কৃমি বেশি দেখি

  • গোলকৃমি — পেট ফোলা, বৃদ্ধি কম, ডায়রিয়া; শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে
  • হুকওয়ার্ম — রক্তক্ষরণ ও রক্তশূন্যতা, বিশেষ করে কুকুরছানায়; লার্ভা চামড়া ভেদ করতে পারে
  • ফিতাকৃমি — লেজের কাছে চালের দানার মতো অংশ; ফ্লি ও শিকার থেকে ছড়ায়
  • হুইপওয়ার্ম (কুকুর) — দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া

সঠিকভাবে দেওয়ার নিয়ম

  • আগে ওজন। বিড়ালছানার ওজন এক মাসে দ্বিগুণ হতে পারে। গত মাসের ওজনে দেওয়া ডোজ কম হতে পারে।
  • সঠিক প্রাণী ও বয়সের ওষুধ ব্যবহার করুন।
  • ফ্লিরও চিকিৎসা করুন। নইলে ফিতাকৃমি আবার ফিরে আসবে।
  • ভ্যাকসিনের আগে কৃমিনাশক — বেশি কৃমি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমায়। দেখুন বিড়ালের ভ্যাকসিন।
  • গর্ভবতী বা দুধ খাওয়ানো মা? শুধু ডাক্তারের নিশ্চিত করা নিরাপদ ওষুধ।

পরিবারের সুরক্ষা

প্রাণীর কিছু কৃমি মানুষকে, বিশেষ করে মাটিতে খেলা শিশুদের, আক্রান্ত করতে পারে। প্রতিদিন লিটার পরিষ্কার করুন, প্রাণী ও মাটি ধরার পর হাত ধুয়ে নিন, আর নিয়মিত কৃমিনাশক দিন।

সাহায্য লাগবে?

আমরা প্রতিটি প্রাণীকে ওজন মেপে ডোজ দিই আর লিখিত ক্যালেন্ডার দিই — দেখুন কৃমি ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, রোগনির্ণয় নয়। আপনার প্রাণী অসুস্থ হলে আমাদের কল করুন বা একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের কাছে যান।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বিড়াল-কুকুরের কৃমির লক্ষণ কী?

পেট ফোলা, ডায়রিয়া, ওজন কমা, লোম রুক্ষ, পাছা ঘষা, বমি বা পায়খানায় কৃমি, বা লেজের কাছে চালের দানার মতো অংশ। অনেক প্রাণীর কোনো লক্ষণই থাকে না।

কোন কৃমিনাশক দেব?

প্রাণী, বয়স, ওজন আর কোন কৃমির সম্ভাবনা তার ওপর নির্ভর করে। প্রাজিকোয়ান্টেলসহ ব্রড-স্পেকট্রাম ওষুধ গোলকৃমি, হুকওয়ার্ম ও ফিতাকৃমি কাভার করে। ওষুধ ও ডোজ আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

কুকুরের কৃমিনাশক কি বিড়ালকে দেওয়া যায়?

শুধু যদি ওষুধে বিড়ালের লেবেল থাকে ও বিড়ালের ওজন অনুযায়ী ডোজ দেওয়া হয়। কুকুরের কিছু ওষুধ বিড়ালের জন্য বেশি কড়া বা অনিরাপদ।

ভ্যাকসিনের আগে কি কৃমিনাশক দিতে হয়?

হ্যাঁ — প্রথম ভ্যাকসিনের কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ আগে দেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন

দৈনন্দিন যত্ন ২ মিনিটে পড়া

বিড়াল খাচ্ছে না? কখন চিন্তা করবেন, কী করবেন

এক দিনের বেশি না খাওয়া বিড়ালকে ডাক্তার দেখাতে হবে। সাধারণ কারণ, ফ্যাটি লিভারের বিপদ, বাসায় নিরাপদে যা করতে পারেন আর কখন আসবেন।

রোগবালাই ৩ মিনিটে পড়া

বিড়ালের প্যানলিউকোপেনিয়া (ক্যাট পারভো) — লক্ষণ ও চিকিৎসা

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন না দেওয়া অনেক বিড়ালছানা প্যানলিউকোপেনিয়ায় মারা যায়। শুরুর লক্ষণ, কীভাবে টেস্ট ও চিকিৎসা হয়, ঘর পরিষ্কার ও প্রতিরোধের উপায় জানুন।

ভ্যাকসিন ৫ মিনিটে পড়া

বিড়ালের ভ্যাকসিন সমাচার — কখন, কোনটা, কতবার

বিড়ালকে কখন কোন ভ্যাকসিন দেবেন, কয় ডোজ, কতদিন পরপর — ফ্লু ও র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের পুরো শিডিউল, দেরি হলে বা অসুস্থ হলে করণীয়, রংপুরের ডাক্তারের লেখা।

আপনার প্রাণীকে নিয়ে চিন্তিত? এখনই কথা বলুন।

ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন — দিন-রাত আমরা উত্তর দিই। জরুরি না হলে সরাসরি ক্লিনিকে চলে আসুন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা।