রংপুরে ভ্যাকসিন কেন এত জরুরি
বাংলাদেশে পোষা প্রাণীর ভ্যাকসিনের পেছনে মূলত দুটি রোগ:
- জলাতঙ্ক (র্যাবিস) — মূলত কুকুরের কামড়ে ছড়ায়, লক্ষণ দেখা দিলে প্রায় শতভাগ মৃত্যু, আর আক্রান্ত প্রাণী বাসার প্রতিটি মানুষের জন্য ঝুঁকি।
- ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়া (“ক্যাট পারভো”) ও কুকুরের পারভোভাইরাস — পরিবেশে মাসের পর মাস বেঁচে থাকে, দ্রুত ছড়ায়। ভ্যাকসিন না দেওয়া বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি মারা যায়।
সঠিক বয়সে সঠিক ভ্যাকসিন দিলে দুটোই প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়।
বিড়ালের মূল ভ্যাকসিন
| ভ্যাকসিন | যে রোগ থেকে সুরক্ষা | প্রথম কোর্স | বুস্টার |
|---|---|---|---|
| পিউরভ্যাক্স ফেলাইন ৪ (RCPCh) | প্যানলিউকোপেনিয়া, হারপিস, ক্যালিসি, ক্ল্যামাইডিয়া | ৮ সপ্তাহ থেকে, ৩–৪ সপ্তাহ ব্যবধানে ২ ডোজ | প্রতি বছর |
| বায়োফেল PCH | প্যানলিউকোপেনিয়া, ক্যালিসি, হারপিস | ১২ সপ্তাহ থেকে, ৩–৪ সপ্তাহ ব্যবধানে ২ ডোজ | প্রতি বছর |
| র্যাবিস | জলাতঙ্ক | প্রায় ১২ সপ্তাহে ১ ডোজ | প্রতি বছর |
স্থানীয়ভাবে এই কম্বিনেশন ভ্যাকসিনকে “ফ্লু ভ্যাকসিন” বলা হয়, কারণ এটি সর্দি-হাঁচি-চোখে পানির মতো ক্যাট ফ্লু প্রতিরোধ করে — তবে এর সবচেয়ে বড় কাজ প্যানলিউকোপেনিয়া থেকে বাঁচানো।
কুকুরের মূল ভ্যাকসিন
| ভ্যাকসিন | যে রোগ থেকে সুরক্ষা | প্রথম কোর্স | বুস্টার |
|---|---|---|---|
| DHPPi+L | ডিস্টেম্পার, হেপাটাইটিস, পারভো, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা, লেপ্টোস্পাইরোসিস | ৬–৮ সপ্তাহ থেকে, ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি ৩–৪ সপ্তাহে | প্রতি বছর |
| র্যাবিস | জলাতঙ্ক | ১২ সপ্তাহে ১ ডোজ | প্রতি বছর |
লেপ্টোস্পাইরোসিস ইঁদুরের প্রস্রাব ও বন্যার পানিতে ছড়ায় — উত্তরবঙ্গের বর্ষায় এটা বাস্তব ঝুঁকি, তাই আমরা এটি রাখি।
আপনার প্রাণীর নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান? ভ্যাকসিন শিডিউল টুলে জন্ম তারিখ দিলেই পুরো ক্যালেন্ডার তৈরি হয়ে যাবে, ফোনে রিমাইন্ডারও রাখা যাবে।
দেরি, বাদ পড়া বা অজানা ভ্যাকসিন
- দ্বিতীয় ডোজ বাদ পড়েছে? যত দ্রুত সম্ভব আসুন। প্রায় ছয় সপ্তাহের বেশি পেরিয়ে গেলে কোর্স নতুন করে শুরু করতে হতে পারে।
- ইতিহাস অজানা প্রাপ্তবয়স্ক? ভ্যাকসিন হয়নি ধরে নিন: ৩–৪ সপ্তাহ ব্যবধানে দুই ডোজ কম্বিনেশন আর একটি র্যাবিস, তারপর প্রতি বছর।
- দেরিতে শুরু? বয়স বেশি হলে ভ্যাকসিনের কারণে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নেই — শুধু সুরক্ষা দেরিতে শুরু হয়। সুস্থ থাকলেই শুরু করুন।
ভ্যাকসিনের মান কীভাবে রক্ষা করি
ভ্যাকসিন ভালো থাকে সঠিক সংরক্ষণে। লোডশেডিংয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানের ফ্রিজে রাখা ভ্যাকসিন বাইরে থেকে দেখে বোঝা না গেলেও কার্যকারিতা হারাতে পারে। আমরা আলাদা, তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ফ্রিজে ভ্যাকসিন রাখি এবং বাসায় নিয়ে দেওয়ার জন্য কখনো ভ্যাকসিন বিক্রি করি না।
ইনজেকশনের পর
সেদিন প্রাণীকে ঘরে শান্ত রাখুন। একটু ঝিমানো বা ইনজেকশনের জায়গায় ছোট ফোলা স্বাভাবিক। মনে রাখবেন, পূর্ণ সুরক্ষা আসতে সময় লাগে: কম্বিনেশন ভ্যাকসিনের শেষ ডোজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর, আর র্যাবিসের প্রথম ডোজের প্রায় ২৮ দিন পর। ততদিন বাচ্চাদের অচেনা প্রাণী থেকে দূরে রাখুন।
আপনার প্রাণী বা কোনো মানুষকে অচেনা প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে এখনই জলাতঙ্ক গাইড দেখুন।