মূল অংশে যান
প্রতিদিন সকাল ৯টা – রাত ১০টা
01783-121256

ভ্যাকসিন কুকুর

কুকুর ও কুকুরছানার ভ্যাকসিন শিডিউল

বাংলাদেশের প্রতিটি কুকুরের যে ভ্যাকসিন দরকার — DHPPi+L ও র‍্যাবিস — কুকুরছানার সময়সূচি, বার্ষিক বুস্টার আর ডোজ বাদ পড়লে কী করবেন।

FI লিখেছেনডা. ফারহান ইসরাক মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. ফারহান ইসরাক ২ মিনিটে পড়া Read in English

মূল কথা

  • DHPPi+L — ডিস্টেম্পার, হেপাটাইটিস, পারভো, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ও লেপ্টোস্পাইরোসিস থেকে সুরক্ষা।
  • কুকুরছানার ডোজ প্রায় ৮, ১২ ও ১৬ সপ্তাহে; ১২ সপ্তাহ থেকে র‍্যাবিস।
  • প্রতি বছর বুস্টার — লেপ্টোর সুরক্ষা এক বছরের বেশি থাকে না।
  • শেষ ডোজের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত কুকুরছানাকে বাইরের মাটিতে নামাবেন না।
এই লেখায়

বাংলাদেশে কুকুরছানার দুটি বড় বিপদ ভ্যাকসিনে প্রায় পুরোপুরি ঠেকানো যায়: পারভোভাইরাস, যাতে প্রতি বছর অনেক ভ্যাকসিন না দেওয়া কুকুরছানা মারা যায়, আর জলাতঙ্ক, যা কুকুর ও মানুষ দুজনের জন্যই প্রাণঘাতী।

মূল ভ্যাকসিনগুলো

ভ্যাকসিন যে রোগ থেকে সুরক্ষা
D — ডিস্টেম্পার জ্বর, চোখ-নাকে ময়লা, কাশি, পরে কাঁপুনি ও খিঁচুনি
H — হেপাটাইটিস লিভারের রোগ
P — পারভোভাইরাস তীব্র রক্ত-পায়খানা ও বমি
Pi — প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা কেনেল কাশি
L — লেপ্টোস্পাইরোসিস কিডনি ও লিভার বিকল; ইঁদুরের প্রস্রাব ও বন্যার পানিতে ছড়ায়
র‍্যাবিস জলাতঙ্ক — প্রাণঘাতী, মানুষেও ছড়ায়

বর্ষার বন্যা আর প্রতিটি শহরে ইঁদুরের কারণে উত্তরবঙ্গে আমরা লেপ্টোস্পাইরোসিসকে জরুরি মনে করি।

কুকুরছানার শিডিউল

বয়স ভ্যাকসিন
৭ সপ্তাহ কৃমিনাশক
৮ সপ্তাহ (পরামর্শে ৬ থেকে) DHPPi — ১ম ডোজ
১২ সপ্তাহ DHPPi+L — ২য় ডোজ + র‍্যাবিস
১৬ সপ্তাহ DHPPi+L — ৩য় ডোজ
শেষ ডোজের এক বছর পর DHPPi+L + র‍্যাবিস বুস্টার
এরপর প্রতি বছর DHPPi+L + র‍্যাবিস বুস্টার

আপনার কুকুরছানার তারিখ দেখুন ভ্যাকসিন শিডিউল টুলে।

১৬ সপ্তাহের ডোজ কেন জরুরি

বিড়ালছানার মতোই কুকুরছানার শরীরে মায়ের অ্যান্টিবডি কিছুদিন ভ্যাকসিনকে আটকে রাখে — কারো কারো ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত। ১৬ সপ্তাহ বা পরের শেষ ডোজটাই নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে। ১২ সপ্তাহে থামালে কিছু কুকুরছানা ঠিক সেই বয়সে অরক্ষিত থাকে, যখন তারা বাইরে ঘুরতে শুরু করে।

ইতিহাস অজানা প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর

  • দিন ০: DHPPi+L + র‍্যাবিস
  • ৩–৪ সপ্তাহ পর: DHPPi+L
  • তারপর: প্রতি বছর বুস্টার

লেপ্টোস্পাইরোসিসের সুরক্ষা শুরু হতে সবসময় দুটি ডোজ লাগে।

সুরক্ষা আসা পর্যন্ত কুকুরছানাকে নিরাপদ রাখুন

পারভোভাইরাস মাটিতে মাসের পর মাস বেঁচে থাকে। শেষ ভ্যাকসিনের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত:

  • বাইরে নিলে কোলে রাখুন, রাস্তার মাটিতে নামাবেন না
  • অচেনা কুকুর যেখানে জড়ো হয় সেখানে যাবেন না
  • তবে সামাজিকীকরণ করুন — ভ্যাকসিন দেওয়া সুস্থ কুকুর, মানুষ, শব্দ ও গাড়ির সাথে

জলাতঙ্ক: কোনো আপস নয়

বাংলাদেশে মানুষের জলাতঙ্কে মৃত্যুর বেশিরভাগই কুকুরের কামড়ে। প্রতি বছর কুকুরকে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দিলে পরিবার, প্রতিবেশী আর কুকুর — সবাই সুরক্ষিত। কুকুরকে অচেনা প্রাণী কামড়ালে ক্ষত ধুয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়ে আসুন — কী করবেন জানুন কামড়ালে করণীয় লেখায়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, রোগনির্ণয় নয়। আপনার প্রাণী অসুস্থ হলে আমাদের কল করুন বা একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের কাছে যান।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কুকুরছানাকে প্রথম ভ্যাকসিন কখন দিতে হয়?

৬–৮ সপ্তাহ বয়সে, তারপর কুকুরছানা অন্তত ১৬ সপ্তাহ হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৩–৪ সপ্তাহে বুস্টার।

DHPPi+L মানে কী?

ডিস্টেম্পার, হেপাটাইটিস (অ্যাডেনোভাইরাস), পারভোভাইরাস, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ও লেপ্টোস্পাইরোসিস — মূল রোগগুলো আর বাংলাদেশের জন্য জরুরি আরও দুটি।

ব্রিডারের কাছে কুকুরছানা একটা ভ্যাকসিন পেয়েছে। যথেষ্ট?

না। একটা ডোজ, বিশেষ করে ১২ সপ্তাহের আগে, প্রায় কখনোই যথেষ্ট নয়। কার্ড নিয়ে আসুন, কোর্স সম্পূর্ণ করে দেব।

আরও পড়ুন

রোগবালাই ৩ মিনিটে পড়া

বিড়ালের প্যানলিউকোপেনিয়া (ক্যাট পারভো) — লক্ষণ ও চিকিৎসা

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন না দেওয়া অনেক বিড়ালছানা প্যানলিউকোপেনিয়ায় মারা যায়। শুরুর লক্ষণ, কীভাবে টেস্ট ও চিকিৎসা হয়, ঘর পরিষ্কার ও প্রতিরোধের উপায় জানুন।

ভ্যাকসিন ৫ মিনিটে পড়া

বিড়ালের ভ্যাকসিন সমাচার — কখন, কোনটা, কতবার

বিড়ালকে কখন কোন ভ্যাকসিন দেবেন, কয় ডোজ, কতদিন পরপর — ফ্লু ও র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের পুরো শিডিউল, দেরি হলে বা অসুস্থ হলে করণীয়, রংপুরের ডাক্তারের লেখা।

দৈনন্দিন যত্ন ২ মিনিটে পড়া

বিড়াল ও কুকুরের কৃমিনাশক — কতদিন পরপর, কেন জরুরি

বিড়ালছানা ও কুকুরছানার প্রতি ২ সপ্তাহে, তারপর প্রতি মাসে, তারপর প্রতি ৩ মাসে কৃমিনাশক। পুরো শিডিউল, বাংলাদেশে কোন কৃমি সাধারণ, আর সঠিক ডোজের নিয়ম।

আপনার প্রাণীকে নিয়ে চিন্তিত? এখনই কথা বলুন।

ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন — দিন-রাত আমরা উত্তর দিই। জরুরি না হলে সরাসরি ক্লিনিকে চলে আসুন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা।